প্রথম আলোকে শুভেচ্ছা

প্রথম আলোর সঙ্গে স্মৃতিটা কৈশরে। খেলা ও ভ্রমণ ফিচার আমারে খুব টানতো। অন্য অনেক পত্রিকা থাকলেও প্রথম আলোর ফিচার ভালো লাগতো। যখন থেকে টুকটাক পত্রিকা পড়া শুরু করলাম গ্রামের বাজারে যিনি পত্রিকা দিতেন তাঁর থেকে পত্রিকাটা নিয়ে যেতাম। বিকেলে পুরো পত্রিকা উল্টিয়ে দেখতাম। ভ্রমণ ফিচারটা আনন্দ নিয়ে শেষ করতাম। পরে ব্লেড দিয়ে কেটে যত্ন করে তুলে রাখতাম ড্রয়ারে।

একটা স্মৃতি মনে পড়লো— টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে পত্রিকার জন্য রাখতাম। কিন্তু ওই টাকায় পত্রিকার বিল শোধ করতে পারতাম না। মাস শেষে দেখা যেতো যে টাকাটা রাখতাম তারচেয়ে পত্রিকার বিল বেশি হয়ে যেতো। একদিন আব্বাসহ বাজারে গেছিলাম সকালে পত্রিকা ওয়ালা আমার কাছে টাকা চাইলো, পুরো টাকা তো আমার জমা নেই, আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম। আব্বা বললেন কতো টাকা? সম্ভবত তিনশোটাকার মতো হবে, ঠিক মনে নেই। আব্বায় একটা মুচকি হাসি দিয়ে পরিশোধ করলেন।

এই তো মাস কয়েক আগেই দুনিয়া দেখা বিশ্বকাপটা যখন আর্জেন্টিনা নিয়া গেলো, দেশের পত্রিকার লিড হলো ফুটবলের মেসি। ফাইনালটা দেখছিলাম চট্টগ্রামে। সকালে নিউমার্কেটে গিয়েই হকার থেকে নিলাম প্রথম আলো। আমি খেলার পাতার কাভার দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সেই কৈশরের আনন্দ নিয়েই পত্রিকা হাতে বাসায় ফিরলাম। বিশ্বকাপে খেলার যে আমেজ তাতে এর একটা অংশ যেন এসে লাগে প্রথম আলোতেই।

সেই দেখা থেকে এখনো অবধি দেশের গণমাধ্যমে রেখে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। হয়ে উঠলো পাঠকের আশার আলো, সমাজের আয়না। আজ ২৫ বছরে পা রাখলো পাঠকপ্রিয় প্রথম আলো। এখন এই পত্রিকার আরো কাছাকাছি। প্রতিদিন সকালে অফিসে আসলেই চোখে পড়ে। ভীষণ রকমের আনন্দ পাই। আনন্দের রজতজয়ন্তীতে পাওয়া ফটোকার্ডে প্রথম আলোকে শুভেচ্ছা জানাই। গণমানুষের পক্ষে কথা বলতে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এই  যাত্রা আনন্দের হোক।