বৃষ্টি শুরু হওয়ার খানিক আগেই বাড়িত আইলাম। বৃষ্টির আশঙ্কায় অনেক দৌড়ঝাঁপের মধ্য দিয়াই আইতে হইছে। এর মাঝে গ্রামের বাজারে আইসা গাড়ির বিড়ম্বনায় পড়তে হইলো। সম্ভবত বৃষ্টির কারণে ড্রাইভাররা গাড়ি বন্ধ কইরা ঘরে ঢুইকা পড়ছে। এমন ঝড়বৃষ্টির দিনে সন্ধ্যা নামতেই গ্রাম একেবারে নীরব হইয়া আসে। যেন কোথাও কেউ নাই।
তই বাড়িতে আসার মিনিট দশেক পরেই বৃষ্টি শুরু হইলো। এই তালের বৃষ্টি হইলে ভালো লাগে। বৃষ্টি দিনের আলাদা একটা আমেজ আছে। এইটা গ্রামে ভালোই উপভোগ করা যায়। টিনের চালের একটানা ছন্দে মন ও প্রাণ ফুরফুরে হইয়া উঠে। বৃষ্টির সাথে সাথে একদম হালকা প্রবাহে বাতাস বইছে। বাতাসে শরীরটা কেমন হিম হইয়া আইছে। এমন একটা বৃষ্টির রাইত আমার জীবনটারে নানান স্মৃতিতে নিইয়া যায়। গত রাইতেও শহুরে বৃষ্টিতে পারভেজ'র সাথে আড্ডায় মইজা ছিলাম। জানালার পাশে বইসা বইসা কতো কিসিমের গল্প-আলাপ করলাম। দুই-একটা নাটকও দেখছিলাম। বৃষ্টির মাঝে আলাদা একটা ফিল আইছিলো। জীবনরে এমন ধারায় যাপন করতে এইরকম আরো আরো রাইত দরকার। অবশ্য এইটা আরো জমে উঠবে সামনের দিনে।
ঘরে আসা মাত্রই আমার বাপজানেরা ( ভাতিজা) গলায় ঝুইলা গেছে। এগো মতলব খারাপ। কি আনছি এইটা তলব কইরা বাইর করবে। না দেয়া পর্যন্ত নাছোড়বান্দা। এই পার্ট চুকাইয়া বাইরে বৈঠক খানায় বইসা পড়লাম। বাইরে এখনো বৃষ্টি ঝরছে। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়ায় দুলছে আমার হাস্নাহেনার গাছটা। বাতাসে হাস্নাহেনার ঘ্রাণ আইসা আমারে মাখাইতাছে। এমন দৃশ্য ঠাহর করতে গ্রাম ছাড়া আর কোন উপায় নাই দুইন্ন্যাত। এর লাইগাই আমার গ্রাম ভালালাগে। গ্রামটারে এতো ভালোবসি। আইলেই গ্রামের প্রকৃতি আর আলো বাতাস আমারে আগলাইয়া রাখে। আষ্টেপৃষ্টে জড়াইয়া থাকে।
এই বৃষ্টির দিনে গ্রামে আইলে আমার ছাইড়া যাইতে মন চায় না। গ্রামের এমন মায়া আমারে আর দশ দুইন্ন্যাও দিতে পারবে না। গ্রাম জিনিসটা এমনি। সবারই গ্রামের প্রতি আলাদা টান আর ভালোবাসা থাকে। আসলে গ্রামটা একটা মায়া। যেন মায়ের মতো। এইটা বুকে পুষে রাইখা মানুষ বাঁইচা থাকে। এই বেঁচে থাকার মধ্যেই সুখ আছে। সুখ আছে বইলাই এতো দুঃখ কষ্ট কইরাও মানুষ গ্রাম থুইয়া শহর বন্দরে যাইতে চায় না। যারা যায় বিবি-বাইচ্চার লাইগা, রিজিকের লাইগা মায়া ছাইড়া পড়ে থাকে। তো, দিনশেষে গ্রাম আছে বইলাই শান্তির খোঁজে মানুষ নীড়ে আইসা পড়ে।
আমিও এর ব্যতিক্রম হইনাই। গ্রামে ফেরার জন্য আমার বুকটা যাই যাই করে। মন চাইলেই আইসা পড়ি। গ্রামে আইলে আমার দিন আর রাইত কেমনে যায় টের পাই না। এমন কতো কতো রাইত আমার পার হইয়া যায় গ্রামে। মন চায় ক্ষেত-খামার কইরা গ্রামে পইড়া থাকি। কিন্তু এসব এই দুইন্ন্যারে বুঝানো যাইবে না। এর লাইগা এই পথ ছাইড়া আলাদা পথ ও উপায়ে হাঁটতে আছি। এইবার যে বৃষ্টির দিনে গ্রামে আইছি থাকবো কিছুদিন। এর কয়েকটা রিজনও আছে। তো, এরই মাঝে সম্প্রতি আমাদের এলাকার উদয়ন ক্লাবের সদস্য নির্বাচিত হইলাম। এইটার জন্য মনে আলাদা ভালোলাগা কাজ করতাছে। ক্লাবটায় মিটিংয়ের একটা ডেডলাইন দিয়া রাখছে। কয়েকদিন পরই জমজমাট একটা আড্ডা অইবো। সেই পর্যন্ত গ্রামেই আছি।